বিশেষ প্রতিনিধি
চাল, ডাল, আলু, তেল ও ডিম, এই পাঁচটি পণ্য ঘিরে তৈরি হয়েছে সিন্ডিকেট। বছরজুড়ে এসব পণ্যের সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণ করেন সিন্ডিকেটের লোকজন। কৌশলে হাতিয়ে নেন হাজার হাজার কোটি টাকা।
সরকারের বাজার মনিটরিং সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন বছরে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে রান্নার তেলের দাম। লিটারে তেলের দাম বেড়েছে ৭৫ টাকা। ডালের দাম বেড়েছে ২৫ টাকা। সবচেয়ে কম বেড়েছে চালের দাম। তাও কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা।
বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী চালের বাড়তি দাম প্রসঙ্গে বলেন, উৎপাদন ও চাহিদা অনুযায়ী বাজারে চালের দাম বাড়ে কিংবা কমে। আমরা চালের দাম বাড়াই না। কারণ, দিন শেষে আমরাও ভোক্তা।
খোলাবাজারে ছোট মসুর ডাল এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪০টাকা কেজি। আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায়। আর বর্তমানে বাজারে ডিম বিক্রি হচ্ছে এক হালি ৫৮ থেকে ৬০ টাকা।
এ নিয়ে ভোক্তাদের অভিযোগ, যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়াই ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তেল, চাল, ডাল ও আলুর দাম বাড়িয়েছেন। এর মাধ্যমে ভোক্তাদের পকেট কেটে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা।
ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা এসব পণ্যের দাম সিন্ডিকেট করে বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বাজার এখন কিছু অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি। এজন্য সরকারের বাণিজ্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ও দায়ী। তারা সঠিকভাবে বাজার মনিটরিং করছে না। আবার কারসাজি চক্র চিহ্নিত হওয়ার পরও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এই দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ঠকাচ্ছে। সরকারের উচিত দ্রুত বাজার মনিটরিং করা, যারা বাজারে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
ক্যাবের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, তেল, পেঁয়াজ, চাল ডাল সবকিছুর দাম মুনাফাখোররা বাড়িয়েছে। তারা সরকারের ছায়াতলে থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের পকেট কাটছে।

