বেনজীর আহমেদের অপকর্মনামা-১

বেনজীর আহমেদের অপকর্মনামা-১

তাসলিমা রহমান, বিশেষ প্রতিবেদক,

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে প্রায় ৬০০ বিঘা জমি কেনা হয়েছে। এসব জমির প্রায় সবই ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাঁরা বলছেন, জমি বিক্রি ছাড়া তাঁদের কোনো উপায় ছিল না। ভয় দেখিয়ে, জোর করে এবং নানা কৌশলে তাঁদের কাছ থেকে জমিগুলো কেনা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে গিয়ে জমি বিক্রি করা হিন্দু পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের জমি কিনতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়োজিত রেখেছিলেন বেনজীর আহমেদ। বেনজীর পরিবারের রিসোর্টের নির্মাণকাজের তদারক করতেন পুলিশ ও র‍্যাবের কিছু সদস্য। তাঁদের দিয়ে তরমুজ চাষসহ কৃষিকাজও করানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি প্রথম আলোর কাছে স্বীকারও করেছেন। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্দেশ দিলে কিছু করার থাকে না।

বেনজীর আহমেদ এসব জমি কেনা ও রিসোর্ট গড়ার কাজটি করেছেন আইজিপি (২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর) ও র‍্যাবের মহাপরিচালক থাকার সময়ে (২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল)।

জমি বিক্রেতাদের একজন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বড়খোলা গ্রামের সরস্বতী রায়ের (৬২) কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি কেন জমি বিক্রি করেছেন? প্রশ্ন শুনেই বিলাপ শুরু করেন সরস্বতী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কত কষ্ট হইরা, সুদে টাহা নিয়া জমিটুক (৩১ শতাংশ) কিনছিলাম। হেই জমিটুক দিয়া আসা নাগছে।’ জমি কে নিয়েছে? সরস্বতী বলেন, ‘বেনজীর নিছে।’ বেনজীর কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বড় পুলিশ’ বলে শুনেছেন।

editor

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *